Rupayan Shopping Square, Suit no: E/8, Level: 08, Plot : 2/C, Umme Kulsum Road, Block: G, Bashundhara R/A, Dhaka – 1229, Bangladesh.

EiD

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার এখন ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহ যাবত এই হার বেশ দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য সরকার ১১দফা বিধিনিষেধ জারি করলেও বাস্তবে সেটি অকার্যকর রয়েছে।

সংক্রমণের হার হু হু করে বাড়লেও বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের তেমন কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

হার্ড ইমিউনিটি ভরসা?

হোটেল- রেস্তোরাঁয় খাবার ক্ষেত্রে টিকা সনদ দেখানো কিংবা গণ-পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন করা – এসবের কোন কিছুই বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এছাড়া জনসমাগমে মাস্ক পরার বিষয়টিকেও অনেকে তোয়াক্কা করছেন না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেক বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিধি-নিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো হাল ছেড়ে দিয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিং-এ জানতে চাওয়া হয়েছিল, যেভাবে সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলছে, তাতে করে তারা কি হার্ড ইমিউনিটির কথাই চিন্তা করছেন?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে অথবা তাদের সংক্রমিত হতে হবে। সংক্রমিত হবার পর তাদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডির উপস্থিতি থাকতে হবে।

“আমাদের টিকা কর্মসূচীতে যথেষ্ট উন্নতি করেছি। টিকা কর্মসূচী সফলভাবে চালিয়ে যেতে পারলে হার্ড ইমিউনিটি অবশ্যই অর্জিত হবে,” বলেন অধ্যাপক হাসান।

ঢাকার একটি হাসপাতালে টিকা দেয়া হচ্ছে।

সরকার বলছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিধি-নিষেধ জারি করা হয়।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিধি-নিষেধ জারি করলেই হবে না, সেটি কার্যকরও করতে হবে।

করনো ভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনা করে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে আবারও অনলাইনে ফিরে গেছে। দেশের উচ্চ আদালতও আবারো ভার্চুয়াল কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিধি-নিষেধের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেয় কোভিড১৯ সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি।

এই কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ বলছিলেন, বাংলাদেশে এখন করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ চলছে। এর মাধ্যমে কি বাংলাদেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন হবে?

এমন প্রশ্নে অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেন, “এটা কিন্তু হতেও পারে। এর আগের ওয়েভে একটি বড় সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং টিকাও পেয়েছে। “

“যদি দেখা যায়, আমাদের জনগোষ্ঠীর আশি শতাংশ সংক্রমিত হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে এক সময় হয়তো হার্ড ইমিউনিটিতে যাবে।”

অধ্যাপক শহিদুল্লাহ ধারণা করছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে করনো ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসবে।

হার্ড ইমিউনিটি বিতর্ক

ছয়মাস আগে বাংলাদেশে যখন করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছিল, তখন সংক্রমণের হার ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছিল। তবে হার্ড ইমিউনিটির বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বিপুল জনগোষ্ঠী দফায়-দফায় আক্রান্ত হলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা যাবে কি না সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।